বাচ্চাদের কেনো ভাতের মাড় খাওয়াবেন জেনে নিন!

জন্মের পর শিশুকে যখন শক্ত বা হালকা শক্ত খাবার দেওয়া উচিত তখন, অনেক মা ভয় পেয়ে যান। কি রকম খাবার দেওয়া উচিত, শিশু মানিয়ে নিতে পারবে কি না। এরকম নানান চিন্তা মনে উকি দেয়। এক্ষেত্রে সেরা সমাধান হতে পারে ভাতের মাড়। আপনি আপনার শিশুকে ভাতের মাড় খাওয়াতে পারেন। এর অনেক উপকারীতা ও রয়েছে।

শিশুর জন্য যেভাবে ভাতের মাড় তৈরী করবেন

তিন টেবিল চামচ চাল ধুয়ে এক কাপ পানিতে জ্বাল দিন পনেরো মিনিটের মতো। এরপর ভাত ছেঁকে মাড়টুকু শিশুকে খাওয়াতে পারেন। মাড় বেশি ঘন মনে হলে সাথে একটু পানি মিশিয়ে নিন।

 

 

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক , কেনো ভাতের মাড় শিশুর জন্য উপকারী …

? ভাতের মাড় শিশুর জন্য হজম করা সহজ। হঠাৎ নতুন খাবারে বাচ্চারা অভ্যস্থ হতে পারে না। ভাত হজম করা তাদের জন্য একটু সমস্যার হয়ে দাড়ায়।

 

? ভাতের মাড় শিশুদের পেঁটে গ্যাস জমা, বা পেঁটে ব্যাথা এই ধরনের সমস্যা থেকে শিশুদের রক্ষা করে।

? বাচ্চারা অনেক সময় ঘন ঘন বমি করে, বা ওদের ডায়রিয়া হওয়াটাও খুব কমন ব্যাপার।এক্ষেত্রে ওদের পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে ভাতের মাড়। প্রতি দু ঘন্টা অন্তর অন্তর বাচ্চাদের ভাতের মাড় খাওয়াতে পারেন।
? ভাতের মাড়ে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। ভাতের মাড়ে উপস্থিত ভিটামিন বি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কে বৃদ্ধি করে।

 

 

?কার্বোহাইড্রেট শিশুদের এনার্জি লেবেল ঠিক রাখে। ফলে শিশু থাকে হাসিখুশি ও একটিভ !

? ভাতের মাড়ে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এই প্রোটিন শরীরের হাড়কে শক্ত রাখতে বিশেষ অবদান রাখে।

? হালকা কুসুম গরম ভাতের মাড় নিয়মিত খেলে আপনার শিশু ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে মুক্ত থাকবে আশা করা যায়।

? এছাড়া এলার্জি বা ত্বকের সমস্যা দুর করতেও কার্যকর ভাতের মাড়। শিশুদের ডায়াপার র্যাশ বা ত্বকে যেকোন ইনফেকশন হওয়া সাধারন ঘটনা। আপনি চাইলে সরাসরি আপনার শিশুর ত্বকে ভাতেড় মাড় লাগিয়ে রাখতে পারেন। এতে ত্বক ঠিক থাকবে। অথবা শিশুর গোসলের পানিতে দু ফোঁটা তিলের তেল ও এক কাপ ভাতের মাড় যোগ করে নিতে পারেন।

 

 

মনে রাখবেন…..

শিশুকে অবশ্যই খুব ভালো মানের চাল থেক মাড় করে খাওয়াবেন। চাল অবশ্যই খুব ভালো করে এর আগে ধুয়ে নিতে হবে। বাদামি রঙের চালে সাদা চালের চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ থাকে। কিন্তু , শিশুকে বাদামি চাল ওর তিন-চার বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়াবেন না। ভাতের মাড় দুধের সাথে মিশিয়ে ও খাওয়াতে পারেন। তবে ভাতের মাড় প্রথমবার খাওয়ানোর আগে একটু মাড় বাচ্চার গালে লাগিয়ে দেখুন। চুলকানি হলে ভাতের় মাড় খাওয়াবেন না। কারণ অনেক বাচ্চাদেরই ভাতে এলার্জি থাকতে পারে। ভাতের মাড় খাওয়ানো পর যদি আপনার বাচ্চার পেট ব্যাথা, পেঁট ফোলা বা অন্য সমস্যা দেখা দেয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ভাতের মাড়ের সাথে অবশ্যই অন্য সব খাবার ও শিশুকে খাওয়াতে হবে।

Leave a Comment