যে শহরের মানুষ পোশাক পরেনা

1449159210রীতি বড় আজব। কোথাও মানুষকে বেঁধে রাখে, মুড়িয়ে রাখে আবরণে-পোশাকে আবার কোথাও পোশাকের বিন্দু মাত্র শরীরে জড়াতে দেয় না। দক্ষিণ ফ্রান্সের অদ্ভুত এক শহর  কেপ দাগদে। এই শহরে গ্রীষ্মকালে বাস করে কেবল নগ্ন মানুষরা! শহরটিতে ছয় হাজার লোক বসবাস। তবে গ্রীষ্মে জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায় শহরটির। কারণ ওই সময়ে মেডিটেরিয়ান সাগরের নীলজলে অবগাহনে আসে আরো ৪০ হাজার মানুষ। যারা আসে তাদেরও আসতে হয় নগ্ন হয়ে। কারণ এ শহর পোশাক পরার বৈধতা দেয় না।

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে প্রায় জনশূণ্য এই সৈকতে নগ্নদের আগমণ শুরু। প্রথমে প্রকৃতির সান্নিধ্যের জন্য কিছু মানুষ সুন্দর এই সৈকতে এসে থাকতে শুরু করে।

সুন্দর সমুদ্রসৈকত আর নীল জলরাশির শহরটির মেয়রের নাম ফিল হোদ। হোদ নিজেই নগ্নতা যাপন করেন। আর এই শহুরে সভ্যতার নাম দিয়েছেন ‘প্রাকৃতিক সভ্যতা’ নামে। হোদ বলেন, প্রকৃতি ও আধুনিকতার মিশেলে শহরটিকে পৃথিবীর একমাত্র নগ্নদের শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কেন এমন করছেন তারা

ফিল আরো বলেন, ‘এই শহরে ঢোকার নিয়ম হয়তো একটু অদ্ভুত। কিন্তু একবার এসে কেউ যখন ফিরে যাবে, সাথে নিয়ে যাবেন অনন্য এক স্মৃতি। যা অনুপ্রেরণা জোগাবে বেঁচে থাকার।’

নগ্ন নাগরিকরা আরো দাবি করেন, প্রকৃতি মানুষ সৃষ্টি করেছে কিন্তু শহর বা আধুনিকতার অন্যান্য উপাদান সৃষ্টি করেনি। মানুষই এসব সৃষ্টি করেছে আর এসব আধুনিকতার উপাদানের সবচাইতে বড় শিকার মানুষই। তাই ওই ‘তথাকথিত’ আধুনিকতা থেকে দূরে থাকতে নগ্ন শহরের এই আয়োজন।

আস্তে আস্তে মেডিটেরিয়ান সাগরের বিখ্যাত নীল জলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পর্যটক আসতে শুরু করে এখানে। এরপর আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে শহর। তবে যতই শহরের স্থাপনা গড়ে উঠুক, একটুও নাকি পাল্টায়নি কেপ দাগদে। এখনো কান পাতলে প্রকৃতির অনন্ত নিঝুমতা আর সাগরের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পায় মানুষ। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Updated: December 4, 2015 — 10:29 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015