বিশ্বের সবচেয়ে খতরনাক দশ আগ্নেয়াস্ত্র

cover-655x360বিশ্বের ইতিহাসে মানুষ ও তাঁর সৃষ্টি করা মারণাস্ত্রের তালিকায় বন্দুকের স্থানই বোধহয় সবচেয়ে সমৃদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই কখনও নিরাপত্তা, কখনও শত্রুকে নিকেশ করতে মানুষ তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও শৈলীকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। এখনও পর্যন্ত বিশ্বে এক লক্ষেরও বেশি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে মারণ ১০ আগ্নেয়াস্ত্র কী কী।

১০. কালাশনিকভ একে ৪৭: শুধু এই দশক নয়, গত কয়েক দশক ধরে মানবজাতির সামনে সবথেকে বড় হুমকি হয়ে দেখা গিয়েছে একে ৪৭-কে। মাত্র এক মিনিটে ৫৮০ রাউন্ড ‘ফায়ার’ করতে পারে এই মারণ বন্দুক। অস্ত্রশস্ত্রের বাজারে একে বলা হয় ক্লাসিক ফায়ারআর্ম। আজও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও জঙ্গি সংগঠন এই বন্দুক ব্যবহার করে শুধুমাত্র এর নিখুঁত কারিগরির জন্য। কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেলের (এ কে ফরটি সেভেন) উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ। কালাশনিকভের অটোমেটিক রাইফেল এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র। কালাশনিকভ রাইফেলের ডিজাইন খুব সরল হওয়ায় এটি তৈরি করতে খরচ পড়ে খুব কম এবং এটির রক্ষণাবেক্ষণও খুব সহজ। রাইফেলটি আবিষ্কারের জন্য কালাশনিকভ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রীয় সম্মান পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর মিখাইল কালাশনিকভ ১৯৪৭ সালে এই অটোমেটিক রাইফেলটির ডিজাইন করেন। তিনি এটির নাম দেন আভটোমেট কালাশনিকোভা। এটি অবশ্য সংক্ষেপে একে ফরটি সেভেন নামেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়।

৯. হেকলার কোচ এইচকে এমজি৪ এমজি ৪৩ মেশিনগান: জার্মানরা তাদের উৎপাদিত দ্রব্যের প্রতি কতটা যত্নশীল তা তো আমরা সকলেই জানি। সেই জার্মানির সংস্থা হেকলার অ্যান্ড কোচ ১৯৯০ সালে এই বন্দুকের ডিজাইন তৈরি করা শুরু করে। কাজ মনের মতো হচ্ছিল না বলে টানা দশবছর চলে গবেষণা। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে এই মারণাস্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এই বন্দুক সবথেকে কম সময়ে সবথেকে বেশি রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে পারে। টার্গেট ‘মিস’ করার প্রবণতা এই বন্দুকের মাত্র ০.০১ শতাংশ। তাই এই মেশিনগানকে অনেকে আদর করে ‘কিলার মেশিন’ বলেও ডাকেন।

৮. হেকলার অ্যান্ড কোচ এইচকে৪১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল: তালিকায় ফের এইচ কে সংস্থার নাম। কারণ, তাদেরই তৈরি এইচকে ৪১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল একটি মাস্টারপিস। মারণ-ক্ষমতার বিচারে তৈরি এই তালিকার অষ্টম আগ্নেয়াস্ত্র এটি। আক্ষরিক অর্থেই কুখ্যাত মার্কিন এম৪ বন্দুকের জার্মান ভার্সন।

৭. থম্পসন এম১৯২ মেশিনগান: মাত্র এক মিনিটে এই বন্দুক ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে পারে। যা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিল মার্কিন সেনাও। তবে এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা রক্ষার কাজেই এই বন্দুক সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয়।

৬. এফ-২০০ অ্যাসল্ট রাইফেল: বেলজিয়াম সংস্থা এফ এন হার্সট্যালের তৈরি এই বন্দুকের যত প্রশংসা করা যায় ততই কম বলা হয়। ২০০১ সালে আবু ধাবিতে এর মারণ-ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা যায়, এর নিশানা কখনও বিফল হয় না। ন্যাটো এই আগ্নেয়াস্ত্র সবথেকে বেশি ব্যবহার করে। ৫.৫৬x৪৫ এম ক্যালিবারের বুলেট একে মার্কিন সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

৫. এমজি৩ মেশিনগান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বন্দুক সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা সবথেকে বেশি সুবিধা হল, এর গুলি ভরার চেম্বার খালি হয়ে গেলে সবথেকে তাড়াতাড়ি ‘রিলোড’ করা যায়। জনপ্রিয় সিনেমা র‍্যাম্বো-য় স্ট্যালনকে এই বন্দুক হাতেই বেশি দেখা যেত পর্দায়।

৪. এক্স এম ৩০৭ এসিডব্লিউ অ্যাডভান্সড হেভি মেশিনগান: মার্কিন সেনার এই বন্দুকটি আক্ষরিক অর্থেই ‘হেভি’। কারণ, একজনের পক্ষে একে চালানো অসম্ভব। এটি ‘ট্রিগার’ করতে দুজন লোক লাগে। এক মিনিটে ২৬০ রাউন্ড গুলি চালানো যায়। এর ক্যালিবারের আকৃতিও তুলনামূলক মেশিনগানগুলির থেকে বড়। তাই নিশানায় থাকা শত্রুর ক্ষতি বেশি হয়।

৩. থম্পসন এম ১৯২১ সাব-মেশিনগান: বিশ্বের তাবড় গোয়েন্দা সংস্থাদের ‘কিলার’ ও জঙ্গিদের হাতে এই বন্দুক দেখা যায়। টার্গেটে নিখুঁত হানা দিতে পারে ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম বলে এটি বিশ্বজুড়েই অত্যন্ত জনপ্রিয়।

২. উজি সাব-মেশিনগান: ইজরায়েলের উজি গালের নির্মিত এই মারণাস্ত্রটি শুটারদের বিশেষ কাজের জিনিস। আকৃতিতে ছোট, ওজনেও হালকা এই বন্দুক বিশেষজ্ঞদের বড় আদরের। খুব সহজেই নিশানায় তাক করে এই বন্দুক চালিয়ে দেওয়া যায় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে সবসময় শোভা পায় থম্পসন এম ১৯২১।

১. ডিএসআর প্রিসিসন ডিএসআর স্নাইপার রাইফেল: সবথেকে দূরপাল্লার ও এখনও পর্যন্ত সবথেকে নিখুঁত নিশানায় আঘাট হানতে সক্ষম এই স্নাইপারের জুড়ি আর একটাও নেই। এটি জার্মানিতে তৈরি। এই অসাধারণ বন্দুকটিতে বাড়তি বুলেট ও ম্যাগাজিনের জন্য আলাদা একটি হোল্ডার রয়েছে। যার জন্য একবার গুলি চালানো হয়ে গেলেও পরের বার রিলোড করতে বেশি সময় লাগে না। বিশ্বের সবথেকে খতরনাক এই বন্দুকের ক্যালিবার সাইজ ৭.৬২x৫১ এমএম ও ৬৬০ এমএম।

Updated: November 23, 2015 — 11:41 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015