সে সম্পর্কে আমার এক বোনের স্বামী

file-224নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার জীবনে এমন কিছু ঘটেছে যার জন্যে আমি সারাক্ষন মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছি। জীবনটাকে আমি নিজেই এমন অবস্থায় দাঁড় করিয়েছি যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কারো সাহায্য নেওয়ারও সুযোগ রাখিনি।

আমার বয়স ২১ এবং আমি এখন স্নাতক ২য় ইয়ারে পড়ছি। আজ প্রায় ৭ বছর ধরে আমার রিলেশন। যার সাথে আমার রিলেশন সে বিবাহিত, সে আমার চেয়ে প্রায় ১৬ বছরের বড় ,তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। এবং সবথেকে বড় কথা হলো সে সম্পর্কে আমার দূর সম্পর্কের বোনের স্বামী। দূর সম্পর্কের হলেও তাদের সাথে আমাদের যথেষ্ট ভালো রিলেশন। প্রায় আমাদের আসা যাওয়া হয়।

আমার প্রেমিক আর আপুর বিয়ে হল ১২ বছর। তাদের দাম্পত্য জীবনে তারা সুখীও। আপু তাকে খুব ভালোবাসে এবং বিশ্বাস ও করে। উনি কখনও চিন্তাই করতে পারেন না উনার স্বামী উনাকে ধোঁকা দিতে পারে। আমি আর ও(প্রেমিক) খুব ভালো ফ্রেন্ড ছিলাম, আমরা অনেক দুষ্টামি করতাম। তখন আমি যথেষ্ট ছোট ছিলাম, তাই কখনো তার জন্য আমার কোন রকমের ফিলিংস ছিল না। আপুও আমাদের সাথে মজা করত। তিনি কখনো এসব খারাপ ভাবে দেখেনি। আমি যখন ৮ম শ্রেনিতে পড়ি তখন তিনি আমাকে প্রপোজ করে। আমি না করে দিই।এরপর কিছুদিন আমাদের যোগাযোগ হয়নি। কয়েকদিন পর থেকে তিনি আবার যোগাযোগ করে এবং আমাকে বুঝাতে থাকে সে আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমিও পরে তার প্রতি উইক হয়ে পড়ি এবং আমাদের মাঝে সম্পর্ক হয়। সে ছিল আমার জীবনের প্রথম প্রেম, আর সেদিন গুলো ছিলো অন্যরকম। কখনো মনে হয়নি খারাপ কাজ করছি। রিলেশেন এর ২ বছর এর মাথায় আমাদের শারিরীক সম্পর্ক হয়। তারপর থেকে প্রায়ই হয়।

এখন রিলেশনে এমন সব প্রবলেম ফেস করছি যা আমি মেনে নিতে পারছিনা। আমার আপুটা অনেক ভালো। উনাকেও আমি এখন ওর সাথে ক্লোজলি দেখতে পারছিনা। আমার নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। নিজের প্রতি নিজেরই ঘেন্না আসে।মনে হয় আমি নিজে ১টা মেয়ে হয়েও অন্য মেয়ের জীবনটাকে নরক বানাতে যাচ্ছি। আর এমন একজন কে কষ্ট দিতে যাচ্ছি যে আমাকে অনেক আদর করে, বিলিভ করে। আগে যদি বুঝতাম তাহলে কখনো এমন পথে পা বাড়াতাম না। মাঝে মাঝে নিজের মনকে বুঝাই “ও তো আমাকে অনেক ভালোবাসে”। ওর কোন ব্যবহারে আমার মনে হয়নি সে আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে, সবসময় মনে হয় ও আমাকে অনেক ভালোবাসি। আমার কথার দাম রাখে। এক কথায় ওর লাইফে আমার প্রায়োরিটি আছে। কিন্তু যখন ওকে আপুর সাথেও অনেক হ্যাপি দেখি, তখন মন মানতে চায় না। ভাবি তখন এটা কিভাবে সম্ভব! একসাথে কি দুজন কে ভালোবাসা যায়? বলে রাখা ভালো আমাদের রিলেশন এর আগে তার ২টা জমজ মেয়ে ছিলো। আমাদের সম্পর্কের পর তার ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে হয়। ও এখন ১টি ভালো জব করে পাশাপাশি ১টি ছোটোখাটো ব্যবসা আছে। আমাকে বিয়ে করলে সে সংসার চালাতে অনেক হিমশিম এর মধ্যে পড়ে যাবে। আর আমি আমারা পরিবারের একমাত্র মেয়ে ,আমার আর ১টা বড় ভাই আছে,বিবাহিত। পরিবারের খুব আদরের মেয়ে আমি ।ফ্যামিলির সবাই আমাকে খুব ভালো মেয়ে হিসেবে জানে। আর আমার ফ্যামিলি কখনোই এই বিয়ে মেনে নিবে না ,কখনোই না, কোনোমতেই না।

 

জীবনের এই অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না। খুব অসহায় লাগছে নিজেকে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মানসিক যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি। প্লিজ আমাকে হেল্প করেন। দয়া করে সাজেস্ট করেন আমার এই অবস্থায় কী করা উচিত। ”
পরামর্শ:

আপু, খুব সহজ করেই বলি। জেনে হোক বা না বুঝে হোক, আপনি ভীষণ বড় একটা অন্যায় করেছেন এবং এখনো করছেন। সবচাইতে বড় কথা, আপনি নিজেকে ঠকাচ্ছেন। ভীষণভাবে ঠকাচ্ছেন। আমি বুঝতে পারছি না, লোকটি যে আপনাকে বোকা বানাচ্ছে, কেবল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে এটা কি আপনি বুঝতে পারছেন না?

দেখুন, একজন মানুষ কখনো দুজনকে ভালবাসতে পারে না। যদি কেউ এমন দাবী করে, এর অর্থ সে কেবল নিজেকেই ভালোবাসে। একটা সহজ জিনিস আপনি কেন বুঝতে পারছেন না যে স্ত্রীর সাথে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। সম্পর্ক ভালো না হলে কোন দম্পতির ৪টি সন্তান জন্ম নেয় না! তিনি আপনাকে যেমন গুরুত্ব দেন্ম ভালোবাসায় ভুলিয়ে রাখেন স্ত্রীর সাথেও একই কাজ করেন। আর করেই বলেই স্ত্রী তাঁর ভালোবাসায় এমন পাগল। একবার ভাবুন তো, আপনি তাঁকে ভালোবাসেন। এখন যদি অন্য কারো সাথে আপনার বিয়ে হয়, আপনি কি সেই লোকটির সাথে ভালোবাসার অভিনয় করতে পারবেন? পারবেন না আপু! আপনার এই দুলাভাইও যদি আপনাকে ভালোবাসতো, স্ত্রীর সাথে তাঁর এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতো না। সম্ভবই হতো না।

আর একটি কথা আপু, এই লোকটি কখনো আপনাকে বিয়ে করবে না। সে কেবলই মিষ্টি কথায় আপনাকে ভুলিয়ে রাখছে। একজন ভালো মনের মানুষ কখনোই বিবাহিত অবস্থায় গিয়ে ক্লাস এইটের এক কিশোরীর সাথে প্রেম করতে চাইবে না, ক্লাস টেনে থাকতে যৌন সম্পর্ক করবে না। যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকত, সে স্ত্রীকে ডিভোর্স করে আপনার পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিত। ক্লাস এইটের কিশোরীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজের লালসা মেটাত না।

ধরুন, সে আপনাকে বিয়ে করতেও রাজি হলো। কারো দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে কী সুখটা আপনি পাবেন? সন্তান ও স্ত্রীকে সে কখনো ছাড়বে না, আপনি পড়ে থাকবেন এক কোণায়। সে আপনার চাইতে ১৬ বছরের বড় আপু। এই বয়স্ক লোকটিকে বিয়ে করে কী পাবেন আপনি জীবনে? যে প্রেমিক বা যে স্বামীকে গর্ব করে নিজের পরিবারের সামনে পরিচয় দিতে পারবেন না, সমাজের সামনে পরিচয় দিতে পারবেন না, কী পাবেন তাঁকে বিয়ে করে?

তবে হ্যাঁ, আমার মনে হয় না সে আপনাকে বিয়ে করবে। আমার মনে হয় যত দ্রুত সম্ভব এই সম্পর্ক শেষ করেই দেয়া উচিত। তারপরও আপনি যদি তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখতে চান, তাঁকে বলুন দ্রুত স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে আপনার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে। তখন তিনি ধানাইপানাই শুরু করলে নিজেই বুঝে যাবেন সব। আর আপনি বিয়ের চাপ দিলে সে আপনার সাথে নিজেই সম্পর্ক ভেঙে ফেলবে, সেই সম্ভাবনাও প্রবল।

তবে আমি মনে করি আপু, এই লোকটিকে বিয়ে না করাই উচিত আপনার।

Updated: April 30, 2016 — 1:51 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015