Loading…

আমি ছিলাম কেবল ভোগের বস্তু

“আমার বাবা খুবই রক্ষণশীল মনোভাবের মানুষ। যেহেতু এমন একটি পরিবারের ২ ভাইয়ের একমাত্র ছোট বোন, সেহেতু আমি ছোটবেলা থেকেই খুবই রক্ষণশীল ভাবে মানুষ হয়েছি। তার মানে এইনা যে আমার বাবা মা আমাকে ভালবাসে না, তারা আমাকে অসম্ভব রকমের ভালবাসে। তাদের ভালবাসাকে আমি নিজের মাঝে অনুভব করতে পারি। ২০০৫ এ নিজে টাকা জমিয়ে ভাইয়াকে দিয়ে চুপেচুপে একটা মোবাইল কিনি। কেনার পরে আব্বুকে বলি, অবশ্য এর জন্য ভাইয়ার উপরে অনেক ঝড় গিয়েছিল। আমার বেশ কিছু ফোন ফ্রেন্ড হয়। যারা আমার কাছে শুধুই বন্ধু। তারপর সাধারনের মাঝে এক অসাধারনের সাথে পরিচয় হয়। আস্তে আস্তে তার সাথে পরিচয় বাড়তে থাকে আর বাকিদের সাথে কমতে থাকে। একটা সময় আমি হিপনোটাইজড মানুষের মতো আচরন করতে লাগলাম। সে যা বলতো তাই আমার কাছে বেদ বাক্য, সে বলল ভালবাসি আমারও মনে হলো একে যদি ভালবাসা না বলে তাহলে পৃথিবীতে কোন কিছুই ভালাবাসার আওতায় পড়েনা।

 

Loading...

মিলনের সময় স্ত্রীর বীর্যপাত হলে কিভাবে বুঝবেন?

২০০৬ এর মাঝামাঝি সে আমাকে তার পুরো পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়(ওরা জয়েন ফ্যমেলি ছিল।)। তাদের বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে অমি যেতাম। আমার কাছে মনে হলো আমি আমার সারা জীবন এই মানুষটাকে ভালবেসে কাটিয়ে দিতে পারবো। তার ভালবাসায় পুরোপুরি সিক্ত হয়ে আমি ২০০৭ এর দিকে তার কাছে নিজেকে পুরোপুরি ভাবে শপে দেই। আর এই ব্যপারটা তার পরিবারের প্রতিটা মানুষ জানতো। এবং পরবর্তীতে তারা সমাজের কাছে আমাকে তাদের ছেলে হবু বউ হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিত। একদিন হঠাৎ করে আমি জানতে পারি যে তার এডুকেশনাল ব্যকগ্রাউন্ড অনেক খারাপ যা আমার পরিবাব কখনোই মেনে নিবেনা, সে এতদিন আমার কাছে মিথ্যা বলেছে। আমি সরাসরি তার মা, বড় বোন আর বড় ফুপুর সাথে কথা বলি। তারা বলে দেখো তুমি চেষ্টা করে আবার পড়াশুনা করাতে পারো কী না? আমি অনেক চেষ্টা করেও যখন দেখালাম যে সে আর পড়াশানা করবে না, তখন নিজের কাছেই ছোট হয়ে গেলাম এই ভেবে তাকে আমার পরিবারের সামনে কী করে পরিচয় করাবো? আমার পরিবারের কথা সে সবই জানতো। পরে বলি যে তুমি যে কোন একটা চাকরি করো তা না হলে আব্বুকে তোমার কথা বলতে পারবোনা আমি। আসলে ওই মানুষটার সাথে্ এতদূর এসে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বিবেকে বাধছিল।

 

তার চাকরীর খবর জানার পর আমি আমার পরিবারকে তার কথা জানাই ২০১১ সালের দিকে, এবং স্বাভাবিক ভাবেই তারা মানা করে দেয়। এরপর আমার উপরে অনেক ঝড় ঝাপটা গিয়েছিল কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। ২০১২ সালে আমার জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে, কিস্তু আমি কিছুতেই রাজি ছিলাম না। কারন একে তো আমি অন্য একজনকে নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি, তার উপর যার সাথে আমার বিয়ের কথা হচ্ছিল সে ছিল একটা লেখাপড়া জানা চামার। আমি প্রেমিককে জানাই সব কথা। এও বলি আব্বুকে রিকোয়েস্ট করতে বলো তোমার আব্বুকে। বাকিটা আমি যেভাবেই হোক সামলে নিবো। কিন্তু আমি অবাক হয়ে জানলাম যে তার বাবা আমার আব্বুকে ফোন করে বলে আমি তার ছেলের মাথা নষ্ট করে জোর করে বিয়ে করতে চাচ্ছি। এমনকি আমাদের ঘনিষ্টতার কথাও অনেকটা রং মাখিয়ে বলেছে আমার আব্বুর কাছে। এরপর ওই লোকের সাথে বিয়ের আয়োজন শুরু করা হয়।

 

আমি অনেক কষ্টে প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে সব জানাই যে তার বাবা মা আমার বাবা মা কে কী বলেছে? সে বলে যে সে নাকি এসবের কিছুই জানেনা বরং তাকে জানানো হয়েছে আমার বাসা থেকে তার বাবা মা কে অপমান করা হয়েছে। ২০১২ সালের মার্চের ৮ তারিখ আমার পুরো পরিবারকে চরম ভাবে অপমান করে তারই সামনে। আর আমি অবাক হয়ে দেখলাম সে চুপচাপ নিরব দর্শকের মতো বসে ছিল। এক পর্যায়ে সে আমাকে পালিয়ে যেতে বলে তাঁর সাথে। মা বাবার অপমান আমি মেনে নিতে পারিনি। ভালোবাসার মানুষের প্রতি ভালবাসাটা ঘৃণায় বদলে যায়।

 

তারপর দিন ৯ই মার্চ আমার আকদ্ হয় ভদ্রতার মুখোশধারী এক মানুষরূপী জানোয়ারের সাথে। তার কাছে স্ত্রীর অর্থ ছিল শুধু মাত্র উপভোগ্য বস্তু। তার সমস্ত ভালবাসা বিছানায় শুরু হয়ে বিছানাতেই শেষ হতো। সেই জানোয়ারটা আমাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করতো নানা বাহানায় । হয়তো কখনো যৌতুকের বাহানাতে অথবা কখনো তার সারাদিন স্ট্রেসফুল গিয়েছে তার জন্য বা আমার বাসা থেকে তাকে ফোন করে আসার অনুরোধ করা হয়েছে তার জন্য । আমি আমার বাসায় জানাই সব কিছু। কিন্তু তারা ভাবে যে আমি যাকে ভালবাসতাম তাকে ভুলতে না পেরে এইসব বাহানা করছি। সব কিছুকে নিজের নিয়তি মেনে নিয়ে তার সাথে তার মতো করে থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখলাম যে আসলেই মানুষটা সাইকো, সে ততক্ষণ শারীরিক সম্পর্কে তৃপ্ত হতোনা যতক্ষণ না সেটা ধর্ষণের পর্যায়ে যাচ্ছে। পুরোপুরি ভেঙ্গে গিয়েছিলাম একটা সময়, কে মানবে আমার কথা?

 

Marital rape এই কথাটার সাথে আমাদের সমাজ এখনও পরিচিত না। কেউ বুঝবেনা, কাউকে বোঝাতে পারবো না। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে ঠিক করি বাসায় আবার জানাবো। তবে অন্য ভাবে। কৌশলে তার যৌতুকের কথা জানাই এবং নির্য়াতনের কথার আভাস দেই। আমার বাবা মা আমার সব কথার সমস্ত প্রমাণ পেয়ে খুব ভেঙ্গে পড়ে। ওই লোককে আর তার পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করে। আমি আমার সিদ্ধান্ত দেই যে যৌতুক দিয়ে আমি কিছুতেই সংসার করবোনা তার উপর রয়েছে নির্যাতন। বিয়ের ৯ মাসের মাথায় আমি ডিভোর্স নেই। কিন্তু ডিভোর্সের পরেও প্রায় ২ বছর ওই লোক আমাকে নানা ভাবে অশান্তিতে রাখতে চেয়েছে যেন আমি আমার পড়াশুনাতে মন না দিতে পারি। যদিও সে নিজে আবার বিয়ে করেছে। কিন্তু আমি আমার পরিবারের সাপোর্টের জন্য অনার্স এবং মাষ্টার্স দুটোতেই ফার্ষ্ট ক্লাস মার্কস নিয়ে পাশ করি। এখন চাকরির চেস্টা করছি।

এখন আমার মুল সমস্যা হল- আমাকে বাসা থেকে আবার বিয়ের কথা বলছে। কিস্তু আমার বাবা মার পছন্দের উপর আমার কোন ভরসা নেই। আর কাছে মনে হয় আমি কখনোই আর স্বভাবিক বিবাহিত জীবনে যেতে পারবোনা। মন থেকেই আসেনা আর। সব ঠিক থাকে কিন্তু যখনই আবার বিয়ের কথা ভাবি তখনই নিজের মাঝে ঝড় বয়ে যায়। আমার বাসার সবাই ভাবছে আমি খুবই স্বাভাবিক আছি, আমার মাঝে কোন কষ্ট বোধ নাই। কিন্তু সত্যি কথা হলো আমার কাছে ভালবাসা, বিয়ে বা কারার পাশে থাকা সব কিছুকে ধোঁকা মনে হয়, মেকী লাগে। কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা এইসব। এটা কী কোন মানসিক রোগ? আমার কি কাউন্সিলিং দরকার? যদি দরকার হয় তাহলে প্লিজ একজন ভাল কাউন্সিলারের রেফরেন্স দেন। কারণ আমার আব্বু আম্মুকে ডাক্তারের কথা বলতে পারবোনা।”
পরামর্শ:

আপু, আপনার , বুদ্ধিমত্তা ও আত্ম সম্মান বোধের প্রশংসা করছি। জায়গার অভাবে আপনার সম্পূর্ণ চিঠিটি ছাপিয়ে দিতে পারলাম না। কিন্তু আপনি যা যা করেছেন, অন্তত আমার কাছে প্রতিটি ব্যাপারই ঠিক মনে হচ্ছে।

প্রেমিককে ফিরিয়ে দিয়ে ঠিক করেছিলেন তখন। যে ছেলেটি আপনার সম্মানের জন্য মাথা উঁচু করে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারে না, তাঁকে বিয়ে করলেও হয়তো পস্তাতে হতো আপনার। বিশেষ করে যদি পালিয়ে বিয়ে করতেন যেমনটি ছেলেটি চেয়েছিল। পরিস্থিতি আসলে অনেক বেশী খারাপ হতে পারত। পরিবারের চাপে ছেলেটি যে আপনাকে ফেলে চলে যেত না, এমন কোন গ্যারান্টি ছিল না।

আপনার মা বাবা যেটা করেছেন, সেটা একেবারেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা । তাঁরা তো ভালো বুঝেই বিয়ে দিয়েছিলেন, কল্পনাও করেন নি যে এমনটা হতে পারে। আপনি যেমন বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন, সেটা আসলেই খুব প্রশংসনীয়। আর ভেঙে না পড়ে নিজের লেখাপড়া শেষ করেছেন, ভালো ফল লাভ করেছেন, সেটা তো অসাধারণ বললে কম বলা হয়।

 

না আপু, আমার মনে হয় না আপনার কোন মানসিক সমস্যা আছে। আপনি চমৎকার বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সাথে নিজের জীবনের সমস্যাগুলো সামলে নিয়েছেন। মানসিক সমস্যা থাকলে এটা পারতেন না। আপনার মনের মাঝে যা চলছে, সেটা খুবই স্বাভাবিক। এত কিছুর পর এমনটা না হলেই হয়তো অস্বাভাবিক লাগত। একদিকে আপনি একা, অন্যদিকে আপনি ভীত। সব মিলিয়ে জীবনটা অন্ধকার লাগাই কি স্বাভাবিক নয়? আমারও মনে হয় আপনার একজন সঙ্গী থাকা উচিত, কিন্তু সেটা কেবলই পারিবারিক পছন্দের না হলে আপনার পছন্দও থাকা জরুরী। এমন একজন মানুষ হওয়া জরুরী যাকে আপনি ভালো বাসতে না পারলেও চোখ বুজে বিশ্বাস করতে পারবেন ও যিনি সব জেনে শুনে আপনাকে সম্মান করবেন। একটাই অনুরোধ আপু, অতীতকে আর সুযোগ দেবেন না আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য। যা গিয়েছে, সেটা শেষ। আর কখনো ফিরে আসবে না। এবং ততক্ষণ পর্যন্ত বিয়ে করবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি মানসিকভাবে তৈরি না হতে পারছেন।

 

কাউন্সিলিং করানোর জন্য আপনি যে কোন বড় হাসপাতালে গেলেই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পেয়ে যাবেন। যদি মনে করেন কারো সাথে মন খুলে কথা বললে ভালো লাগবে, কাউন্সিলিং করান। এছাড়াও আপনি ডাঃ মোহিত কামাল বা মেহতাব খানম ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁরা দুজনেই নামকরা বিশেষজ্ঞ। একটু গুগল করলেই যোগাযোগের নম্বর পেয়ে যাবেন।

শুভকামনা আপু আপনার জন্য।

জেনে একজন নারীর দ্রুত বীর্যপাত ঘটানোর উপায়

Loading...
Updated: April 23, 2016 — 11:08 am
bdtips © 2015