মেয়েদের ছোট পোশাকই কি ধর্ষণের কারণ?

priyanka-chopra-cleavageঅবাক করা সমীক্ষা ফল! সমীক্ষা বলছে, ভারতে প্রতিদিন অন্তত ৯২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন৷ যখনই এই ধরনের কোন মামলা আদালতে উঠেছে, তখন প্রথম যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হল, ধর্ষণের শিকার ওই মহিলা  কী ধরনের পোশাক পরেছিলেন৷
যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে পোশাকের ধরনে পরিবর্তন এসেছে৷ আদিমকালে ছিল পশুর চামড়া, গাছের ছাল৷ আর এখন রয়েছে নানা ধরনের পোশাক৷ বর্তমানে দেশ, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা, কাজের ধরন, অনুষ্ঠান, পছন্দ ও ফ্যাশানের ভিত্তিতে বহু ধরনের পোশাক পরে থাকেন মেয়েরা৷

শরীর প্রদর্শন মানেই কি ধর্ষককে আমন্ত্রণ?
ভারতে বেশিরভাগ ধর্ষণ মামলায় দেখা গিয়েছে, ধর্ষিতা সালোয়ার কামিজ বা শাড়ি পরেছিলেন৷ অর্থাৎ যাকে বলা হয় ভারতীয় নারীর আদর্শ পোশাক৷ সেই ধরনের পোশাকই তাঁরা পরেছিলেন৷ অর্থাৎ এই সমীক্ষা থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, শরীর প্রদর্শন না করে বা তথাকথিত ‘আধুনিক’ পোশাক না পরেও শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন নারীরা৷

আইনের ভয় নেই
২০১৩ সালে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ জীবনে অন্তত একবার কোনও নারীকে ধর্ষণ করেছে৷ এর মধ্যে বেশিরভাগ পুরুষকেই কোনও আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়নি৷

ধর্ষণ যখন বিনোদনের মাধ্যম
ধর্ষণে সেরা উত্তর প্রদেশ! ভারতের এই রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে৷ এর কারণ হিসেবে পুলিশ নারীদের উপর পশ্চিমি সংস্কৃতির প্রভাব, মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার ও ছোট পোশাক পরিধানকে উল্লেখ করেছে৷ মহিলাদের  নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ পুলিশ বলেছে, সেখানকার পুরুষরা তাদের বিনোদনের অভাব পূরণ করছে ধর্ষণের মাধ্যমে৷

নারীদের দাবিয়ে রাখার হাতিয়ার
রাস্তা, অফিস বা যে কোনও পাবলিক প্লেসে পুরুষের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা৷ বিশেষ করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়ায় নারীদের দাবিয়ে রাখতে পুরুষরা ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে৷

পরিচিতদের দ্বারাই বেশি ধর্ষণ
২০১৩ সালে ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর রিপোর্ট বলছে,  ওই বছর ১০০ জন ধর্ষণের শিকার নারীর মধ্যে ৯৮ জন এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন, যারা তাদের পরিচিত৷ আদালতে যেসব মামলা ওঠে, বা সংবাদমাধ্যমে যেসব ঘটনা প্রকাশ পায় সেগুলি বেশিরভাগই বাইরের লোকের হাতে৷ ফলে পরিচিত ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষণের ব্যাপারটি ধামাচাপা পড়ে যায়৷

যৌন নিগ্রহ সর্বত্র
ভারতে জন্মের আগে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ বেআইনি হলেও, খুব সাধারণ ঘটনা৷ ফলে পৃথিবীর আলো দেখতে পাওয়া মেয়েদের সংখ্যা এত কম যে, সমাজে নারী-পুরুষের অনুপাতে হেরফের হয়৷ এছাড়া বাল্যবিবাহ, কম বয়সে মা হওয়া, সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও মৃত্যুবরণ করছেন মহিলারা৷ পরিবারের ভিতরেও চলে যৌন নির্যাতন এবং ধর্ষণ৷ এরপরও কি ধর্ষণের জন্য পোশাককে দায়ী করা যায়?

Updated: April 1, 2016 — 11:46 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015