সমুদ্রসৈকতে টপলেস সুন্দরীদের দিন শেষ?

beach_0সমুদ্রসৈকতে খোলা শরীরের স্বাধীনতা সম্ভবত আর থাকছে না মহিলাদের৷ টপলেস হওয়া তো বটেই, প্রকাশ্য জায়গায় ‘ব্রেস্ট’ বা ‘নিপল’ প্রদর্শনও অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে৷ এরকমই এক আইনের প্রস্তাব উঠেছে নিউ হ্যামস্পেয়ারে৷  আাগামী বছর থেকে তা কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল৷ আর এ নিয়েই তুমুল বিতর্ক দেখা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে৷

‘ফ্রি দ্য নিপল’ নামে এক আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই এই পালটা আইন আনার প্রস্তাব দিয়েছেন কেউ কেউ৷ নারী শরীর নিয়ে ছুৎমার্গ কাটানো ছিল ওই আন্দোলনের লক্ষ্য৷ কিন্তু লক্ষ্য যে ভ্রষ্ট হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ বরং প্রকাশ্যে শরীর প্রদর্শনের হিড়িক ব্যুমেরাং হয়েছে আন্দোলনকারীদের কাছে৷ এছাড়া সমুদ্রসৈকতে টপলেশ সুন্দরীর ট্যুরিস্টদের অন্যতম আকর্ষণ৷ কিন্তু এতে যে সামাজিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন কেউ কেউ৷  আইন প্রণয়নকারী পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘ কেউ কেউ ব্রেস্ট বা নিপল প্রদর্শন করতে মারাত্মক ব্যস্ত৷ কিন্তু তাঁরা খেয়াল করছেন না শিশু বা পরিবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতখানি খারাপ হতে পারে৷ এই প্রস্তাব হ্যামস্পেয়ারের সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে৷’

এই আইন যদি কার্যকরী হয় তবে মহিলারা সমানাধিকারে বঞ্চিত হবেন কি না, তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে কি না তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন৷ সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ নিয়ে জমেছে বিতর্ক৷ একজন পুরুষ যদি বিচে উর্ধাঙ্গ অনাবৃত করে ঘুরতে পারেন, তাহলে একজন নারী নন কেন-এই বিতর্কেই সরগরম ভার্চুয়াল দুনিয়া৷ কেউ কেউ জানাচ্ছেন, পুরুষ আইন প্রণেতার দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই ‘টপলেস’ হওয়া খারাপ বলে মনে হচ্ছে৷ এটা পুরুষতন্ত্রের জোর খাটানোরই একটা উপায়৷ টপলেস হওয়ার পক্ষে যাঁরা তাঁদের যুক্তি, তাঁরা এভাবে ফুটবল ম্যাচ থেকে বা লাইব্রেরি তো যাচ্ছেন না৷ কিন্তু যেখানে পুরুষরা একই স্বাধীনতা উপভোগ করছেন, সেখানেই তাঁরাও টপলেস পক্ষপাতী৷

আইন প্রণয়নকারী পরিষদের কাছে দু’পক্ষের বক্তব্যই জমা পড়েছে৷ এখন নতুন সংশোধনীই জানিয়ে দেবে, সমুদ্রসৈকতে টপলেস সুন্দরীদের দিন শেষ হল কি না৷

Updated: March 2, 2016 — 5:22 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015