স্বামীর পুরুষাঙ্গ ছোট, স্ত্রী কি অসুখি ?

Screenshot_257প্রশ্ন ১ঃ আমার নাম বৃষ্টি (নাম পরিবর্তিত)। আমি বিবাহিত, আমার স্বামীর পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য ৪ ইঞ্চি। বিয়ে যখন হয়েছিল তখন আমার বয়স কম থাকায় তেমন কিছু বুঝিনি। কিন্তু এখন আমি তার সাথে অসুখি আছি। বিভিন্ন ডাক্তাররা বলেন যে মেয়েরা তাদের যোনির সামনের ৩ ইঞ্চি দিয়ে যৌন সুখ অনুভব করে। এটা ভূল ধারণা মাত্র। আপনি একটা মেয়েকে জিজ্ঞাসা করে দেখবেন যে তারা কি বলে। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বলি এটা একটা মেয়ের কপাল খারাপের লক্ষণ। যেমনটি আমার। আমার স্বামী আমাকে খুব ভালোবাসে কিন্তু আমি তার সাথে রাগারাগি করি। সে আমার কথা অনুযায়ী হারবাল চিকিৎসা নেয়, কিন্তু তাতে কোন উপকার হল না।

তার স্থায়ীত্ব হচ্ছে ৮ থেকে ১২ মিনিট। কিন্তু আমি তেমন আনন্দ পাই না। ভাইয়া, বিশ্বাস করেন একটা মেয়ের জীবনে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না। আমি ভাল পরিবারের মেয়ে তাই কোন পরকীয়াতেও নিজেকে জড়াতে পারছি না। এখন কি কোন ভাবে আমি পূর্ন তৃপ্তি পেতে পারি। আমার স্বামীও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। সে বলছে যে উন্নত দেশে গিয়ে চিকিৎসা করাবে। আমি ওই কথাকে সান্ত্বনা হিসাবে নিলাম। যা লিখলাম আপনার কাছে তা লজ্জা ভেঙ্গেই লিখলাম। আশা করি সঠিক সমাধান পাব।

উঃ লজ্জা ভেঙ্গে লেখার জন্য ধন্যবাদ। প্রথমেই আপনাকে বলে রাখি যে বিজ্ঞাপন দেখে কোন হারবাল চিকিৎসা করাতে যাবেন না। ওতে যে শুধু টাকা নষ্ট হবে তাই নয় শরীরেরও ক্ষতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য – প্রস্থ বৃদ্ধি করার কোন নিরাপদ পদ্ধতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৄদ্ধির একমাত্র উপায় বিশেষ ধরনের অপারেশন, কিন্তু সেগুলো খরচসাপেক্ষ এবং অত্যন্ত কষ্টকর। উপরন্তু সেইসব অপারেশনের ফলও যে সবসময় আশানুরূপ হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। আর চার ইঞ্চির পুরুষাঙ্গ মোটেই ছোট নয়। শারীরবৃত্তিয় (physiologically) দিক দিয়ে দেখতে গেলে ওই দৈর্ঘ্যের পুরুষাঙ্গের সাথে ঘর্ষণের ফলে স্ত্রী যোনির স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে যৌন আনন্দ পাওয়া সম্ভব। আর আপনি যে লিখেছেন চার ইঞ্চির পুরুষাঙ্গ যুক্ত পুরুষের সাথে বিবাহ একটি নারীর কপাল খারাপের লক্ষণ, সেটাও নেহাতই ভিত্তিহীন কথা। পৃথিবীতে এমন বহু নারী রয়েছেন যারা চার ইঞ্চি নিয়েই তাদের স্বামীকে ভালবাসেন ও আনন্দ পান।

স্বামীর সাথে সহবাসে আপনার যৌনতৃপ্তি হচ্ছেনা। তার কারণ আপনার স্বামীর পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্যে নাও হতে পারে। যৌনতৃপ্তির জন্য কেবল পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পর্যাপ্ত নয়। আদর করার পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মহিলাদের যৌনতৃপ্তি কেবল যোনি থেকে আসেনা। শরীরের বাকি অংশ যেমন স্তন, ঊরু, নাভী, তলপেট, গলার পাশের অংশ, ঠোট ইত্যাদিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর বিশেষ করে বলতে হয় ক্লিটোরিস বা ভগাঙ্কুরের কথা। ক্লিটোরিস উত্তেজিত করলে মহিলাদের অর্গ্যাজম হবার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। কাজেই স্বামীকে বলুন সঙ্গমের সময় যেন তিনি ক্লিটোরিসের দিকেও সমান নজর দেন।

তাহলে দেখবেন আপনার তৃপ্তি অনেক বেড়ে গেছে। সঙ্গমের পদ্ধতিতে বৈচিত্র নিয়ে আসুন। সবসময় যে যোনির মধ্যে পুরুষাঙ্গ ঢুকিয়ে সঙ্গম করতে হবে তারও কোন মানে নেই। আপনার স্বামীকে মাঝে মাঝে আঙ্গুল, ঠোট ইত্যাদির মাধ্যমেও চেষ্টা করতে বলুন। আর আপনি আপনার স্বামীর পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে চিন্তা ত্যাগ করুন। ওনার পুরুষাঙ্গ যথেষ্ট লম্বা। সত্যি কথা বলতে গেলে মনে হয় আপনাদের সমস্যা শারীরিক নয়, মানসিক। তাই আপনাদের দুজনেরই কোন সেক্স থেরাপিস্ট বা রিলেশনশিপ কাউন্সেলরের সাথে কয়েকদিন কাউন্সেলিং প্রয়োজন। তাহলেই আশা করা যায় আপনাদের সমস্যার সমাধান সম্ভব। মনে রাখবেন কোন জিনিস বা ব্যক্তিকে ভালবসাতে হলে আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে যে সেই জিনিস বা বস্তু ভাল। শেষ করার আগে বলছি যে যদি নেহাতই আপনার স্বামীকে আপনি ভাল না বাসতে পারেন সেক্ষেত্রে ডিভোর্সের কথা ভাবুন। কারণ ভাল না লাগলেও জোর করে একসাথে থাকাটা অর্থহীন।

Updated: February 19, 2016 — 6:22 pm

1 Comment

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015