ধর্ষণের মুখে আত্মরক্ষার আট কৌশল

face-rapeধর্ষণ এখন নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা৷ মহিলাদের হেনস্তা হতে দেখেও তাদের রক্ষা করার জন্য ছুটে আসা হিরোদের বাস্তবে দেখা যায় না বললেই চলে৷ আর পরিস্থিতি যখন খারাপ হয় তখন সেরকম কোনও সহৃদয় ব্যক্তির আসায় সাহায্য চেয়ে কেঁদে কোনও লাভও হয় না৷ তাই বলে কি মেয়েরা বাড়িতে বসে থাকবে? কখনওই না৷ পুরুষের অত্যাচারের ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে ঘুরে দাড়াতে হবে মেয়েদেরই৷ নিজেদের বিপদ আগে থেকে আঁচ করুন৷ সাবধান হোন৷ তারপরেও যদি দুর্ঘটনা একেবারে সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলে রুখে দাড়ান৷ কি করবেন এমন অবস্থায়? কি করে বাঁচাবেন নিজেকে? আপনার জন্য কিছু উপায় দেওয়া হল৷ এগুলি আপনকে সাহয্য করবে দুর্ঘটনা ও হেনস্তার হাত থেকে আপনাকে বাঁচতে৷

১. ফোন
ফাঁকা কোনও গাড়িতে উঠলে বা ফাঁকা রাস্তায় হাঁটলে সবার আগে যেটা করবেন সেটা হল ফোন৷ এখন মোবাইল ফোট সবার কাছেই থাকে৷ আপনি আপনার কোনও পরিবারের লোককে বা বিশ্বস্ত কোনও বন্ধুকে বা যেখানে আছেন তার ধারে কাছেই কারও বাড়ি থাকলে তাদের ফোন করুন৷ অনবরত কথা বলুন৷ দরকার হলে আগে থেকে ম্যাসেজ করে বলে রাখুন কেন আপনি এত কথা বলছেন৷ আর চারপাশে যা হচ্ছে বর্ননা করুন৷ এতে আপনাকে কেউ ফলো করলে সে জানবে যে আপনি ছাড়াও আরও একজন আপনার চারপাশ সম্পর্কে জানছেন৷ এবং সে কিছুটা হলেও এলার্ট হবে৷ প্রয়োজনে কেউ ফলো করছে বুঝলে বা গাড়ির ড্রাইভার অন্যরকম বুঝলে তাকে নিয়েও কথা বলুন ফোনে৷ কি পরে রয়েছে সে কি করছে কোনও বিশেষ চিহ্ন রয়েছে কিনা সব৷ তাহলে তার মধ্যে একটি ভয় থাকবে৷

২. মিথ্যা ফোন
ফোন থাকলেও পরিস্থিতি এমনও হতে পারে যে ফোন করা যাচ্ছে না৷ আপনার নেটওয়ার্ক না থাকতে পারে, আপনার ফোনের ব্যাটারি শেষ হতে পারে অথবা আপনার ফোনে টাকাও না থাকতে পারে৷ কিন্তু এই সব কথা শুধু আপনি জানেন৷ আপনাকে হেনস্তা করছে যে অপরিচিত ব্যক্তি সে জানে না৷ তাই মিথ্যাই ফওনের অভিনয় করুন৷ এমন ভান করুন যাতে মনে হয় আপনি সত্যিই কাউকে সমস্ত কথা বলছেন৷

৩. গাড়ির নম্বর
ফাঁকা গাড়িতে উঠলে গাড়ির চালকের সামনেই অতি অবশ্যই গাড়ির নম্বর নোট করে রাখুন৷ এবং তা আপনার বিশ্বস্ত কোনও ব্যক্তিকে পাঠিয়ে রাখুন৷ তাহলে আপনার কোনও বিপদ হলে আপনাকে খুঁজতেও সুবিধা হবে আবার গাড়ির চালকেরও একটি ভয় থাকবে৷

৪. পেপার স্প্রে
এত কিছু সাবধাণতার পরেও বিপদ যদি সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলে আপনি কি করবেন? ব্যাগে সবসময় একটি পেপার স্প্রে রেখে দিন৷ আর সেটি ব্যাগের সামনের দিকেই রাখুন যাতে যখন তখন প্রয়োজনে হাত দিলেই পাওয়া যায়৷ ব্যাগ থেকে কোনও রকমে পেপার স্প্রে করে দিন আক্রমণকারীর চোখে মুখে৷ সে অনেকটাই তাতে আক্রান্ত হবে৷

৫. আঘাত
পুরুষের পেশির শক্তি মহিলাদের থেকে বেশি হয়৷ তাই উল্টোপাল্টা হাত পা ছুঁড়ে কোনও লাভ হবে না মহিলাদের৷ পুরুষকে কাবু করতে হলে জানতে হবে তার সব থেকে দুর্বল স্থান৷ সেটি হল তার যৌনাঙ্গ৷ এই অংশে যতবার যেভাবে সম্ভব আঘাত করুন৷ তাতে কাবু হবেই আক্রমণকারী৷

৬. ধাঁরাল ছুড়ি
ব্যাগের সামনের দিকে পেপার স্প্রের সঙ্গে ধাঁরাল ছুড়িও রেখে দিন৷ বিপদে পরলে কাজে লাগান সেটি৷ প্রয়োজনে শুধু ভয় দেখিয়ে পালান৷

৭. লঙ্কার গুঁড়ো
ব্যাগে একটি কৌটতে লঙ্কার গুঁড়োও রেখে দিতে পারেন৷ সেটিও ছিটিয়ে দিতে পারেন আক্রমণকারীর চোখে৷

৮. মানসিক শক্তি
সব থেকে বেশি জরুরি এই সময় মানসিক শক্তি৷ মানসিকভাবে শক্ত না হলে আপনি এর মধ্যে কোনওটি করেই পার পাবেন না৷ তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী মানসিকভাবে শক্ত রাখবেন নিজেকে৷ আক্রমণকরীকে সব থেকে বেশি কাবু করতে পারবেন যাদি আপনার মধ্যে সেই মানসিক বল থাকে৷

Updated: February 14, 2016 — 12:11 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bdtips © 2015